শতাব্দীর পুরনো এই জনপদের গৌরবময় অতীত
সুন্দরগঞ্জ নামের উৎপত্তি নিয়ে দুটি প্রচলিত মত রয়েছে। প্রথমত, তিস্তা নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই এলাকার বাণিজ্য কেন্দ্র বা 'গঞ্জ'টি অত্যন্ত সুসজ্জিত ও সুন্দর ছিল বিধায় এর নাম হয় "সুন্দরগঞ্জ"।
দ্বিতীয় মত অনুযায়ী, প্রাচীনকালে এই অঞ্চলে **সুন্দর সিংহ** নামক একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বসবাস করতেন। তাঁর নামানুসারেই এই জনপদের নামকরণ করা হয়েছে বলে অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন।
১৮৫৫ সালে ব্রিটিশ সরকার সুন্দরগঞ্জকে থানা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। দীর্ঘ ১৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের শোষণ পেরিয়ে **১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট** পাকিস্তান সৃষ্টির মাধ্যমে সুন্দরগঞ্জ ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্তি পায় এবং পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।
ব্রিটিশ আমলে এই এলাকার কৃষকরা নীল চাষের বিরুদ্ধে বিদ্রোহেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরগঞ্জের মানুষ ছিল অদম্য। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই, **১০ ডিসেম্বর ১৯৭১** তারিখে সুন্দরগঞ্জ হানাদার মুক্ত হয়।
৯ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে পাকিস্তানি বাহিনী এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলে ১০ ডিসেম্বর সকালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা সুন্দরগঞ্জ থানায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। প্রতি বছর এই দিনটি স্থানীয়ভাবে 'সুন্দরগঞ্জ মুক্ত দিবস' হিসেবে পালিত হয়।
প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের ফলে ১৯৮৪ সালে সুন্দরগঞ্জ থানা পূর্ণাঙ্গ উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে এটি গাইবান্ধা জেলার অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা।
১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শত্রুমুক্ত হয়। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর মুক্তিযোদ্ধারা এই পবিত্র মাটিকে কলঙ্কমুক্ত করেন।
সুন্দর সিংহ নামক ব্যক্তি অথবা তদানিন্তন সুন্দর বাজারের নামানুসারে।
১৮৫৫ সালে থানা প্রতিষ্ঠার পর ১৬৯ বছরের দীর্ঘ প্রশাসনিক পথচলা।
১০ ডিসেম্বর ১৯৭১-এ মুক্তিযোদ্ধারা সুন্দরগঞ্জকে পাকিস্তানি সৈন্য মুক্ত করেন।
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পলিমাটিতেই এই জনপদের প্রাচীন সভ্যতার বিকাশ।