তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের উর্বর পলিবিধৌত সবুজ সমতল
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা গাইবান্ধা জেলার উত্তরাংশে অবস্থিত। এর উত্তরে কুড়িগ্রামের উলিপুর ও রাজারহাট, দক্ষিণে গাইবান্ধা সদর, পূর্বে ব্রহ্মপুত্র নদ বেষ্টিত কুড়িগ্রামের চিলমারী ও রাজিবপুর এবং পশ্চিমে রংপুরের পীরগাছা ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা।
উপজেলার ভূমি মূলত সমতল। পূর্ব ও উত্তর প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া বড় নদীগুলোর প্রভাবে এখানকার ভূ-প্রকৃতি পলিমাটি দ্বারা গঠিত। অসংখ্য চরাঞ্চল এই উপজেলার অন্যতম প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য।
এখানকার মাটি প্রধানত পলি-দোআঁশ ও পলিমাটি। নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে বালিমাটি দেখা যায়। এই মাটি ধান, পাট, তামাক এবং চরাঞ্চলে বাদাম ও মিষ্টি আলু চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
এখানে কোনো প্রাকৃতিক বনাঞ্চল নেই, তবে গ্রামীণ বনায়ন ও সামাজিক বনায়ন বেশ সমৃদ্ধ। নদীর চরাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কাশবনের দেখা মেলে।
উপজেলার উত্তর ও পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত এই নদী সুন্দরগঞ্জের জীবনরেখা। বর্ষায় এটি প্রমত্তা রূপ নিলেও শীতকালে এর বিশাল চর জেগে ওঠে।
উপজেলার পূর্ব সীমান্ত দিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ প্রবাহিত। এটি এই অঞ্চলের কৃষি ও অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের মাঝে অসংখ্য ছোট-বড় চর রয়েছে (যেমন: কাপাসিয়া, হরিপুরের চর)। এছাড়া বিভিন্ন খাল ও বিলে মিঠা পানির মাছের প্রাচুর্য পাওয়া যায়।
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের সংযোগস্থলে হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষাকালে নদী ভাঙন ও বন্যা এখানকার প্রধান প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ।
মার্চ–জুন। উত্তরবঙ্গের শুষ্ক আবহাওয়ায় তাপমাত্রা প্রায়ই ৩৮°–৪০°C ছাড়িয়ে যায়। মাঝে মাঝে কালবৈশাখী ঝড় হয়।
জুন–সেপ্টেম্বর। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টি হয়, যা তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়িয়ে চরাঞ্চল প্লাবিত করে।
অক্টোবর–নভেম্বর। ধান পাকার ঋতু। চরাঞ্চলে দিগন্তজুড়ে কাশবনের সৌন্দর্য এবং নবান্নের উৎসব শুরু হয়।
ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি। হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা পড়ে। তাপমাত্রা অনেক সময় ৫°–৮°C এ নেমে আসে।