তিস্তার ঢেউ আর ভাওয়াইয়ার সুরে ঘেরা জনপদ
উপজেলার প্রধান ধর্মীয় উৎসব। চরাঞ্চল ও মূল ভূখণ্ডে ব্যাপক উৎসাহে পালিত হয়।
বর্ষাকালে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়, যা এই এলাকার অন্যতম আকর্ষণ।
নতুন ধান কাটার পর পিঠাপুলির উৎসব এবং মাঘের শীতে গ্রামীণ মেলা বসে।
সুন্দরগঞ্জ সদরে বৈশাখী মেলা এবং হালখাতা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নববর্ষ উদ্যাপন করা হয়।
উপজেলার হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব, যা অত্যন্ত সাড়ম্বরে পালিত হয়।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা বসে, যেখানে মৃৎশিল্প ও হস্তশিল্পের পসরা সাজানো হয়।
সুন্দরগঞ্জ তথা গাইবান্ধার প্রাণ। গাড়িয়াল আর চাতক পাখির বিরহী সুরে এই অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ ফুটে ওঠে।
তিস্তা নদীর ভাঙা-গড়া নিয়ে চরের মানুষের মুখে মুখে অনেক গান ও কিংবদন্তি প্রচলিত আছে।
ইসলামি সংস্কৃতির আবহে জারি গান এবং নদীপ্রধান এলাকা হওয়ায় নৌকা বাইচের সময় সারি গান গাওয়া হয়।
শীতকালে গ্রামের খোলা ময়দানে রাতভর পল্লীগীতি ও ঐতিহাসিক যাত্রাপালা পরিবেশিত হয়।
সুন্দরগঞ্জের বিশেষত্ব। মানকচু ও ছোট শুঁটকি মাছের গুঁড়া দিয়ে তৈরি অত্যন্ত সুস্বাদু ও ঝাল লোকজ খাবার।
তিস্তার চরের মিষ্টি আলুর হালুয়া ও সেদ্ধ এই এলাকার অন্যতম প্রধান ঘরোয়া খাবার।
উত্তরবঙ্গের জনপ্রিয় খাবার পেলকা (বিভিন্ন শাকের মিশ্রণ), যা এই এলাকায় ভাতের সাথে বেশ সমাদৃত।
শীতকালে চালের গুঁড়া ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি পিঠার ধুম পড়ে যায়।
তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের টাটকা বোয়াল, আইড় ও কাজলী মাছের তরকারি এখানকার বিশেষ পরিচিতি।
পল্লী এলাকার টাটকা গরুর দুধের সর ও দই আপ্যায়নের প্রধান অনুষঙ্গ।
কুলা, ডালা, ডালি ও মাছ ধরার খালুই তৈরিতে সুন্দরগঞ্জের কারিগররা দক্ষ।
কুমোরপাড়ায় তৈরি মাটির সরা, পুতুল ও হাঁড়ি-পাতিল এখনও গ্রামীণ মেলায় দেখা যায়।
চরাঞ্চলের নারীদের হাতে বোনা রঙিন নকশিকাঁথা এই জনপদের অন্যতম সাংস্কৃতিক সম্পদ।
গৃহস্থালি ব্যবহারের বিভিন্ন শীতল পাটি ও মাদুর বুনন এখনও অনেক গ্রামে টিকে আছে।